
‘নাটক মোদের অহংকার, নাটক হোক সমাজ গড়ার হাতিয়ার’—এ স্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী অরূপ নাট্যগোষ্ঠী ও সংগীত সংগঠনের ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (দু যুগপূর্তি) এবং ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উদযাপিত হয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শুক্রবার, বাবুরহাট কলেজ মিলনায়তনে দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, সম্মাননা স্মারক প্রদান, কেক কাটা এবং সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাধন চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মো. মঈনুদ্দিন ভূঁইয়া লিটন এবং জাসাস চাঁদপুর জেলা শাখার সদস্য সচিব মোবারক হোসেন সিকদার।
সংগঠনের দীর্ঘ পথচলায় অবদানের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠককে সম্মাননা দেওয়া হয়। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে সম্মাননা নেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও চাঁদপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন মজুমদার লিটন, কার্যকরী সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. হাবিব উল্যাহ পাটোয়ারী, গার্ডেন থিয়েটার কুমিল্লার দলপ্রধান আতিকুর রহমান সুজন এবং ১৪ নং ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মান্নান গাজী।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও দীর্ঘ পথচলায় অবদানের জন্য প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সাধন চন্দ্র দত্ত, সহ-সভাপতি মিল্টন চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক সপ্তমী রানী দত্ত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক স্বাধীন চন্দ্র দত্ত, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক কানাই চন্দ্র শীল, মহিলা সম্পাদিকা জোসনা রানী দাসসহ সংগঠনের আরও কয়েকজন সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।
আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, একটি নাট্য সংগঠনের দু যুগের পথচলার পেছনে শিল্পী, কলাকুশলী ও সংগঠকদের শ্রম ও ত্যাগ রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, অরূপ নাট্যগোষ্ঠী ২৪ বছর ধরে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশে ভূমিকা রেখে চলেছে। নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিমুখী করতে নাট্যচর্চার পরিধি আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তাঁরা।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের স্মরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা ও বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. শহিদুল্লাহ মাস্টার, শিক্ষক মিলন চন্দ্র পাল, ডা. ডি. কে. পোদ্দার অনু এবং সংগঠনের নামকরণকারী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মিজিসহ প্রয়াত ও গুণী ব্যক্তিদের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।