
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনে ব্যাংক, অফিস, ব্যক্তিগত ছবি, ফেসবুক ও বিকাশ-নগদের তথ্য থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা প্লে-স্টোর বা বিভিন্ন লিংকের মাধ্যমে এমন অ্যাপ ছড়িয়ে দিচ্ছে, যেগুলো ইন্সটল করার পর ফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে এবং ব্যবহারকারীর অজান্তে ব্যাংক থেকে টাকা সরিয়ে নিতে পারে।
ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপকে পারমিশন দিলে তা কন্টাক্ট লিস্ট, গ্যালারি, SMS এবং বিকাশ বা ব্যাংকের OTP পড়তে পারে। কিছু লোন অ্যাপে Spyware থাকে, যা ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকে। Rapid Cash, Easy Loan, Cash Boss ও Golden Cash-এর মতো নাম ব্যবহার করে এমন অ্যাপ ছড়ানোর কথা বলা হয়েছে; এসব নাম পরিবর্তনও করা হতে পারে।
আসল বিকাশ, নগদ বা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের লোগো নকল করে ভুয়া অ্যাপও আপলোড করা হয়। ব্যবহারকারী আসল মনে করে লগইন করলে পিন ও পাসওয়ার্ড হ্যাকারের সার্ভারে চলে যেতে পারে। ‘আপডেট ভার্সন’ বা ‘নতুন অফার’-এর নামেও প্রতারণা হতে পারে।
AnyDesk-এর মতো রিমোট-অ্যাক্সেস অ্যাপ ব্যবহার করেও প্রতারণা করা হয়। কেউ ব্যাংক বা বিকাশের পরিচয় দিয়ে এই অ্যাপ ইন্সটল করে কোড দিতে বললে ফোনের স্ক্রিন দেখা ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে। কোনো ব্যাংক বা বিকাশ AnyDesk ইন্সটল করতে বলবে না।
‘Stylish Bangla Keyboard’, ‘Free Emoji Keyboard’ বা ‘Cool Fonts’-এর মতো কিবোর্ড অ্যাপ ব্যবহারকারীর টাইপ করা তথ্য পড়তে পারে। এ ধরনের ঝুঁকিকে Keylogger বলা হয়। হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকের বাইরে থেকে পাঠানো ‘viral-video.apk’ কিংবা ‘voter-list.apk’ ধরনের APK ফাইল ইন্সটল করলে Trojan ঢুকে SMS থেকে ব্যাংকের OTP চুরি করতে পারে এবং কন্টাক্টে একই লিংক পাঠাতে পারে।
ফ্রি VPN, অ্যান্টিভাইরাস ও ক্লিনার অ্যাপের মাধ্যমে ডাটা সংগ্রহ, Adware দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত সাবস্ক্রিপশনে যুক্ত করা এবং Mod APK-এর ভেতরে Banking Trojan ঢোকানোর ঝুঁকির কথাও বলা হয়েছে। CapCut Pro Free, YouTube Premium Free বা Bikash Mod-এর মতো অ্যাপে SharkBot, Cerberus ও Anatsa থাকার দাবি করা হয়েছে।
ফোন অস্বাভাবিক গরম হওয়া, দ্রুত চার্জ বা ডাটা শেষ হওয়া, নিজের অজান্তে SMS পাঠানো, অনাকাঙ্ক্ষিত OTP আসা, অপরিচিত অ্যাপ দেখা এবং বিকাশ বা নগদ থেকে ছোট অঙ্কের টাকা কাটার SMS—এসবকে সতর্কতার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
Settings-এর Permission Manager থেকে অচেনা অ্যাপের SMS, Contact ও Accessibility পারমিশন বন্ধ করতে হবে। অচেনা লোন অ্যাপকে Accessibility Permission না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ কেবল প্লে-স্টোর থেকে নেওয়া, ডেভেলপারের নাম, রিভিউ ও ডাউনলোড সংখ্যা যাচাই, Google Play Protect চালু এবং Install Unknown Apps বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ব্যাংকিং অ্যাপে ২ স্টেপ ভেরিফিকেশন ও Biometric লক ব্যবহার এবং নিয়মিত অচেনা অ্যাপ পরীক্ষা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।