
স্টাফ রিপোর্টার : ফরিদগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে দলিল কার্যক্রম ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, এখানে প্রতি দলিলে নিয়মবহির্ভূতভাবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হয়।
মোহাম্মদ মোস্তফা নামে এক দলিল লেখকের অভিযোগ, সরকারি ফি পরিশোধের পরও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া বাধ্যতামূলক। তার দাবি, দিনশেষে এই টাকা অফিসের নির্দিষ্ট কর্মচারীর কাছে জমা দেওয়া হয় এবং পরে দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে নিম্নপদস্থ কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।
মোস্তফা আরও অভিযোগ করেন, দলিলে আইনি বা তথ্যগত ত্রুটি থাকলে তা সংশোধনের নামেও আলাদা অর্থ লেনদেন হয়। এ কাজে নাইটগার্ড মো. মাইন উদ্দিন মানিক মধ্যস্থতা করেন বলে তিনি দাবি করেন।
দলিল লেখক সমিতির অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ করেছেন দলিল লেখক মো. ইউনুছ আলী। তার দাবি, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নির্বাচন না দিয়ে অবৈধভাবে দায়িত্ব ধরে রাখা হয়েছে।
তবে সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের পাটওয়ারী অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সদস্যদের কল্যাণে সমিতির তহবিল ব্যবহার করা হয় এবং কোনো সদস্য মারা গেলে তার পরিবারকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে সমিতির অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তিনি ক্যাশিয়ারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার মো. মামুন বলেন, অতীতে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার চর্চা থাকলেও গত প্রায় দু মাস ধরে তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সার্বিক অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার তানভীর আলম ও জেলা রেজিস্ট্রার মো. আকবর আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি।