
মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই সমাজ, রাজনীতি ও রাষ্ট্র—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। চাঁদপুরের বড় স্টেশন এলাকার আব্দুর রহিম গাজীকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনা সেই দায়িত্বের গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। ৭ অক্টোবর ২০২৬ বুধবার চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ডকলাইন এলাকার লোকো কলোনিতে যৌথ অভিযান চালিয়ে তার বসতঘর থেকে ২ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ ৭০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একই দিন তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে চাঁদপুর পৌর বিএনপি।
দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও দলীয় গঠনতন্ত্রবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এর আগেও আব্দুর রহিমকে শোকজ করা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক পরিচয় কোনো অপরাধীর ঢাল হতে পারে না—চাঁদপুর পৌর বিএনপির সিদ্ধান্তে এই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অভিযোগ থাকার পরও ব্যবস্থা নিতে এত সময় লাগল কেন, সেই প্রশ্নও রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা ও মাছ চাষের মতো বৈধ ব্যবসার আড়ালে তিনি মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন। সংবাদ প্রকাশের পর পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে হুমকি ও প্রতিবাদ জানানো এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাকে বদলি করানোর চেষ্টা করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে যাচাই হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগগুলো সত্য হলে বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তির মাদক কারবারে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে আশ্রয়-প্রশ্রয় বা প্রভাব বিস্তারের বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। তাই মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, সহযোগী এবং সম্ভাব্য পৃষ্ঠপোষকদেরও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অভিযানে ফারহান রানা ও জয় নামে আরও দুজনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিষয়ে কার্যকর আইনগত উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি পুরো চক্রের ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
চাঁদপুরে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকা দরকার। রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যবসায়িক আড়াল বা প্রভাবশালী যোগাযোগ—কোনোটিই যেন মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয় না হয়। অতীতে কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এমন কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।