
ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নাশতা খেয়ে মায়ের পেছন পেছন বাসা থেকে বের হয়ে যায় ১২ বছর বয়সী হাসিব। এর আগে বন্ধু ইমতিয়াজের বাসায় যাওয়ার কথা বললে মা তাকে খালামনির সঙ্গে বাসায় থাকতে বলেন এবং নিজে হাসপাতালের উদ্দেশে বের হন। পরে হাসিব দুই সহপাঠীকে নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে বাসায় ফিরে আসে।
এর আগে সকালে নিয়মমাফিক কোচিংয়ে যায় হাসিব। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে বাসায় ফিরে খাবার খাওয়ার পর সে মায়ের পেছনে বের হয়। হাসিব বাবা-মায়ের প্রথম সন্তান। সে হাসান আলী সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মা গৃহিণী।
বাসা থেকে বের হয়ে হাসিব প্রথমে হাসান আলী স্কুল মাঠে যায়। সেখানে কাউকে না পেয়ে শহীদ মিনারে গেলেও পরে আবার স্কুল মাঠে ফিরে আসে। সেখানে সহপাঠী নিশাতের সঙ্গে দেখা হলে তারা মাঠসংলগ্ন ভবনের চতুর্থ তলায় থাকা সাফিনকে সঙ্গে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তিন বন্ধু একসঙ্গে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকে।
তারা রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটে এবং পুরান বাজার সেতু, সদর হাসপাতাল ও ডাকাতিয়া নদীর তীর ঘুরে আবার বিদ্যালয়ের মাঠে ফিরে আসে। এরপর ছায়াবাণী মোড় হয়ে নতুনবাজার পণ্টুনে যায়। সেখান থেকে ট্রাক রোড ধরে গ্রামের দিকে যাওয়ার সময় তারা পথ হারিয়ে ফেলে। এক বয়স্ক ব্যক্তির কাছ থেকে পথ জেনে তিন বন্ধু নতুনবাজার হয়ে আবার বিদ্যালয়ের মাঠে ফিরে আসে।
এদিকে হাসিবের মা হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে তাকে না পেয়ে খোঁজ শুরু করেন। তার বোন জানায়, হাসিব মায়ের সঙ্গেই বের হয়েছে। পরে মা আশপাশের পরিচিত স্থান, ইমতিয়াজের বাসা, শহীদ মিনার, রেললাইনের পাশ ও সরকারি কলেজ মাঠে খোঁজ করেন।
হাসিবের মা বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি সহকর্মীদের অবহিত করেন এবং পরিচিতজনদের ফোন করে খোঁজ নেন। দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে হাসিব বাসায় ফিরলে তার মা ফোনে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে বাবা স্বস্তি প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি শিশুদের চলাফেরা ও নিরাপত্তার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।