
নিজস্ব প্রতিনিধি: সড়ক দুর্ঘটনা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জনদুর্ভোগের কারণ। প্রতিদিনই সড়কে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্বের ঘটনা ঘটছে, অনেক পরিবার হারাচ্ছে তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। এতে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি, সন্তানের ভবিষ্যৎ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়। নিহত ব্যক্তির শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব না হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রাষ্ট্রের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি। এ বিবেচনায় সরকার ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১১ অক্টোবর ২০২৬ চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের ৩২টি পরিবারকে মোট ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সহায়তা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর আর্থিক সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেছেন, স্বজন হারানোর বেদনা বা চিরতরে পঙ্গুত্বের ক্ষতি কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের সহায়তা বিপর্যস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা আর্থিক ও মানসিক শক্তি দিতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার নামে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা বা নিহতদের পরিবারের সহায়তার জন্য সংগৃহীত অর্থের স্বচ্ছতা ও যথাযথ ব্যবহার নিয়ে জনমনে সংশয় আছে। কোথাও কোথাও এ ধরনের অর্থ সংগ্রহ চাঁদাবাজির অভিযোগে বিতর্কিত হয়। তবে সব সংগঠনকে একইভাবে মূল্যায়ন করা সমীচীন নয়। সহায়তা কার্যক্রমকে স্বেচ্ছামূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা এবং গুরুতর আহত বা পঙ্গুত্ব বরণকারীদের নির্ধারিত নিয়মে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। এই সহায়তা কোনো অনুকম্পা নয়; দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার ও পুনর্বাসনের সঙ্গে যুক্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। আবেদন যাচাই, অনুমোদন ও অর্থ বিতরণে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে অনিয়ম ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সুযোগ কমে।
তবে এককালীন অর্থ সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা, পুনর্বাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও জীবিকার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করা, জেলা পর্যায়ে তথ্য সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি এবং সহায়তার অর্থ ও উপকারভোগীদের বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে জবাবদিহি বাড়ানো যেতে পারে।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি সামাজিক ন্যায়বিচারের অংশ। চাঁদপুরে ৩২টি পরিবারকে ১ কোটি ১৬ লাখ টাকার সহায়তা বিতরণ এ দায়িত্ব পালনের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এ ধরনের কার্যক্রম সারা দেশে নিয়মিত ও বিস্তৃত কর্মসূচি হিসেবে পরিচালনা, সহায়তার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, চালকদের প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ সড়কব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।