
নিজস্ব প্রতিনিধি ॥ চাঁদপুরের আট উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১ হাজার ১৫৬টি। এর মধ্যে ৬৪২ বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক। চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়গুলো।
প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলোতে সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন যাবৎ শিক্ষক সংকট থাকায় বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে কর্তৃপক্ষকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের দাবী সংশ্লিষ্টদের।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানালেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণের সম্ভাবনার কথা।
অভিভাবকরা বলেন, একজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করায় বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যালয়ের সমস্যা নিয়ে এলাকা ও অভিভাবকদের সাথে সময় দিতে হয়। ফলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করতে পারছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তাই তারা দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করে শিক্ষা কার্যক্রম বেগবান করার দাবি জানান।
প্রধান শিক্ষক না থাকায় শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলার বালিথুবা ইউনিযনের রাজাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক থাকলে শিক্ষার মান আরো ত্বরান্বিত হতো। আমি এই দায়িত্বে থাকার কারণে আমার রুটিন ক্লাশগুলোতে ঠিকমতো মনোনিবেশ করতে পারছি না। এতে করে মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। তাই আমরা চাই, সরকার দ্রুত প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক মো. জাকির হোসেন বলেন, প্রত্যেকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবশ্যক। না থাকলে ভারপ্রাপ্ত দিতে হয় সহকারী শিক্ষককে। তিনি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে পারেন না। কারণ বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা সহকর্মী মনে করেন। আবার প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিয়ে তিনি যথাযথভাবে পালন করতে পারে না। প্রথমেই তার নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম ব্যহত হয়। সরকারিভাবে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি এসেছে। অতিদ্রুত গ্রেডেশান তালিকা তৈরি করে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে জমা দিবে। এরপর শূন্যপদ পূরণের কার্যক্রম শুরু হবে।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রধান শিক্ষকদের গ্রেডেশান তালিকার কাজ চলমান রয়েছে। তবে আগামী তিন মাসের মধ্যে শূন্য পদগুলো পূরণের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন তিনি।