1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - :
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মৈশাদীর ভোটের মাঠে চার মুখ জনপ্রিয়তার দৌড়ে কে এগিয়ে? বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মতলবে ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির মাদকবিরোধী সভা  ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রক্তিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন! কচুয়ার সদর দক্ষিণে ভোটের হাওয়া, মাঠে ৬ চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপিএইচসিডি’র কেন্দ্রীয় ২১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হলেন জি এম শাহীন কোন শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না – ইউএনও মনিরা খাতুন। কচুয়ার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন গ্রেফতার এআই-এর অপব্যবহার : সম্ভাবনার বিপরীতে এক অন্ধকার বাস্তবতা   হাইমচর-চাঁদপুর বিকল্প সড়কের কাজ দ্রুত শুরু হবে: শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক

হাজীগঞ্জে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বেহাল দশা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেক্স-  চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌরসভায় কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বছরে প্রায় ৭ হাজার ১৮৯ টন পৌর কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর মধ্যে ৫ হাজার ২৬৯ টনই ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যাচ্ছে। অর্থাৎ মোট বর্জ্যের প্রায় ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশই যথাযথ ব্যবস্থাপনার আওতায় নেই। বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় পৌর এলাকার জনবহুল চারটি স্থানে উন্মুক্তভাবে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন পৌরবাসী।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ২০২৪ সালের এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে হাজীগঞ্জ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার এমন চিত্র উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ১৫ বছর আগে ২০১১ সালে প্রণীত হাজীগঞ্জ পৌরসভার মাস্টারপ্ল্যানেই ভবিষ্যৎ বর্জ্য সংকটের আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছিল। ওই পরিকল্পনায় বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র স্থাপন, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা, স্বাস্থ্যসম্মত ভূমি ভরাট এবং পুনর্ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব সুপারিশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়ন হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে হাজীগঞ্জ পৌরসভায় সড়ক, ড্রেনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অথচ কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মৌলিক অবকাঠামো এখনো দুর্বল। ফলে পরিকল্পনা, বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগের পরও নাগরিকদের জন্য কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে হাজীগঞ্জ পৌরসভার মোট বাজেট ছিল ১১৭ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার ২৫০ টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব বাজেট ৩০ কোটি ৩ লাখ ৪৬ হাজার ২৫০ টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ৮৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। উন্নয়ন খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব ছিল ৮৪ কোটি ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বাজেটের খাতভিত্তিক বিবরণে রাস্তা, ড্রেন, সেতু-কালভার্ট, গণশৌচাগার, হাট-বাজার ও কসাইখানাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের কথা থাকলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বড় কোনো পৃথক বরাদ্দ স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে হাজীগঞ্জ পৌরসভা বৈদেশিক অর্থায়নে সরকারের ‘নগর শাসন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’ (আইইউজিআইপি)-এর আওতাভুক্ত। ২০২৩ সালের ১ জুলাই শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ৬০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৩০২ মিলিয়ন, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা (এএফডি) ২০০ মিলিয়ন এবং বাংলাদেশ সরকার ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করছে।

আইইউজিআইপির ঘোষিত উদ্দেশ্যের মধ্যে নগর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও রয়েছে। তবে হাজীগঞ্জ পৌরসভায় এ প্রকল্পের আওতায় মূলত সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে।

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, আইইউজিআইপির পাঁচটি প্যাকেজে হাজীগঞ্জ পৌরসভার সড়ক ও ড্রেন নির্মাণে মোট চুক্তিমূল্য প্রায় ৫০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। প্রথম প্যাকেজে ৩ হাজার ৪৮ মিটার সড়ক ও ৪৩৪ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের চুক্তিমূল্য ৭ কোটি ৩৬ লাখ ১২ হাজার টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে ২ হাজার ৭৬ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণের চুক্তিমূল্য ৭ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

তৃতীয় প্যাকেজে ৩ হাজার ৫০ মিটার ড্রেন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজের চুক্তিমূল্য ১০ কোটি ৪৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এ প্যাকেজের ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৮৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

চতুর্থ প্যাকেজে ২ হাজার ২৩২ মিটার সড়ক, ৫ হাজার ৯০ মিটার আরসিসি ড্রেন, ৩২০ মিটার সুরক্ষা কাজ, ৭৯টি সড়কবাতি ও ১০০টি গাছ লাগানোর কাজ রয়েছে। এ প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ১৫ কোটি ৪৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা। একই সময় পর্যন্ত এর ভৌত অগ্রগতি ছিল মাত্র ৫ দশমিক ১১ শতাংশ। পঞ্চম প্যাকেজের চুক্তিমূল্য ৯ কোটি ৬৩ লাখ ১১ হাজার টাকা। এতে ১ হাজার ৩৫৫ মিটার সড়ক ও ৩ হাজার ৪৮ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ রয়েছে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের মূল্যায়ন অনুযায়ী, হাজীগঞ্জ পৌরসভায় বছরে প্রায় ৭ হাজার ১৮৯ টন কঠিন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৬৯ টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে যায়। পরিবারভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতেও রয়েছে উদ্বেগজনক চিত্র। ৮১ শতাংশ পরিবার বর্জ্য পরিবেশে ফেলে দেয়, ১৮ শতাংশ পরিবার পৌরসভার ভ্যানসেবা ব্যবহার করে এবং মাত্র ১ শতাংশ পরিবার ডাস্টবিন ব্যবহার করে।

এছাড়া পৌর এলাকায় চারটি বর্জ্য ফেলার স্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এসব স্থান উন্মুক্ত পরিবেশের সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব ও পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্থায়ী ও আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। ১৫ বছর আগে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যানের সুপারিশ বাস্তবায়ন করে দ্রুত বর্জ্য শোধনাগার, নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন ও নিয়মিত বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা চালু করা না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট