
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল ৪টায় চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট সংলগ্ন চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর জেলা কার্যালয় ও জেলা মৎস্য অফিস যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জমাদারের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক, মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. ফারহানা আক্তার, জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা ফয়েজ জালাল উদ্দিন, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহসভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, চাঁদপুর জেলা ক্যাবের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মুজিবুর রহমান, ক্যাব সদস্য বিপ্লব সরকার, মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবেবরাত সরকারসহ সমিতির নেতৃবৃন্দ ও অনলাইন ইলিশ মাছ ব্যবসায়ীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির নামে প্রতারণার সঙ্গে চাঁদপুরের কোনো ব্যবসায়ী জড়িত নন। চাঁদপুর জেলার বাইরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে কিছু অসাধু ব্যক্তি চাঁদপুরের ব্যবসায়ীদের ভিডিও বা ছবি ডাউনলোড করে নিজেদের ফেসবুক পেজ ও আইডিতে প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। টাকা নেওয়ার পর মাছ সরবরাহ না করে অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতার মোবাইল নম্বর ব্লক কিংবা নিজেদের ব্যবহৃত নম্বর বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
বক্তারা বলেন, এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। অনলাইনে ইলিশ কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ক্যাশ অন ডেলিভারি, অর্থাৎ মাছ হাতে বুঝে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধের পরামর্শ দেওয়া হয়। অস্বাভাবিক কম দামে ইলিশ কেনার আগে বাজারদর যাচাই করারও আহ্বান জানানো হয়। প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, অনলাইন ব্যবসায়ীদের নিবন্ধনের আওতায় আনতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির উদ্যোগে বৈধ অনলাইন মাছ ব্যবসায়ীদের তালিকা করা হয়েছে। এসব ব্যবসায়ীর তালিকা ব্যাপকভাবে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
ইলিশের মূল্য নিয়ন্ত্রণে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেন, বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লে এর দাম অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি কোনো ব্যবসায়ী অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ, যৌক্তিক মূল্যে মাছ বিক্রি, পচা-বাসি বা নষ্ট মাছ বিক্রি না করা এবং ওজনে কম না দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।