
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা গেছে। চিঠিতে সংসদীয় আসন-২৬২, চাঁদপুর-৩-এর সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার লক্ষ্যে হাসপাতালসংলগ্ন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভূমিতে নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগকে বিধি মোতাবেক পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। ফলে হাসপাতালটির সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি জেলার অন্যতম প্রধান সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। সরকারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটির অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ২৫০ এবং এখানে বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, অন্তর্বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার, প্যাথলজি ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন সেবা চালু রয়েছে।
জেলা সদরসহ চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। ৫০০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রোগীদের শয্যা সংকট কমার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা চালুর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে চাঁদপুরে চিকিৎসাসেবার চাহিদা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবায়ন হলে জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন।
তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে প্রকল্প প্রণয়ন, নকশা অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ, প্রশাসনিক অনুমোদন ও দরপত্রসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ এসব কার্যক্রম এগিয়ে নেবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চাঁদপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ৫০০ শয্যার হাসপাতাল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে জেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। নতুন ১৫ তলা ভবন নির্মাণের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরে সরকারি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বহুগুণে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।