
শিক্ষার উদ্দেশ্য কি কেবল ভালো ফলাফল, জিপিএ-৫ কিংবা গোল্ডেন এ-প্লাস অর্জন? নাকি শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞানী হওয়ার পাশাপাশি সৎ, মানবিক, দায়িত্বশীল ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা? এই প্রশ্নটি নতুন নয়। কিন্তু প্রতিযোগিতামুখর বর্তমান সময়ে প্রশ্নটির গুরুত্ব যেন আরও বেড়েছে।
মঙ্গলবার হাজীগঞ্জের শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে নবনির্বাচিত সভাপতি ও কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ভালো ফলাফলের মাধ্যমে জীবনের প্রথম ধাপে সফলতা অর্জন করা গেলেও ভালো মানুষ হতে না পারলে সেই সাফল্যের মূল্য থাকে না। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার সাফল্যকে শুধু পরীক্ষার নম্বর দিয়ে নয়, চরিত্র ও মানবিকতার আলোকে দেখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
ভালো ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর মেধা, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। এটি উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে শিক্ষার চূড়ান্ত সাফল্য কেবল ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। উচ্চশিক্ষিত হয়েও কেউ যদি অসততা, অন্যায়, দুর্নীতি, স্বার্থপরতা ও দায়িত্বহীনতার কাছে নৈতিকভাবে পরাজিত হন, তাহলে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা সমাজের জন্য কতটা কল্যাণকর—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
শিক্ষা মানুষের চিন্তার পরিধি বাড়াবে এবং সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় ও ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করবে—এটাই প্রত্যাশিত। একজন শিক্ষার্থী শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়বে না; পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবেও ভূমিকা রাখবে। তাই গণিত, বিজ্ঞান, ভাষা ও ইতিহাসের পাশাপাশি সততা, সহমর্মিতা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও পরমতসহিষ্ণতার শিক্ষাও জরুরি।
তবে অনেক সময় শিক্ষাব্যবস্থায় ফলাফলই সাফল্যের প্রধান মাপকাঠি হয়ে ওঠে। অভিভাবকের প্রত্যাশা, বিদ্যালয়ের সুনাম ও শিক্ষার্থীর সামাজিক পরিচয়ের সঙ্গে পরীক্ষার ফলাফলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে ভালো ফলের চাপের মধ্যে নৈতিক ও মানসিক বিকাশ আড়ালে পড়ে যেতে পারে। অথচ জীবনের বড় পরীক্ষাগুলো কোনো প্রশ্নপত্রে আসে না; সেখানে সততা, বিবেক, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধই মানুষকে মূল্যায়িত করে।
শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। গোল্ডেন এ-প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ এবং অন্য কৃতীদের শিক্ষাসামগ্রী ও বই দেওয়ার ঘটনা পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়াতে পারে। এমন স্বীকৃতি মেধাবীদের অনুপ্রাণিত করে এবং অন্যদেরও পরিশ্রমে উৎসাহিত করে। তবে মেধার পাশাপাশি মানবিক ও নৈতিক গুণাবলিকেও গুরুত্ব দেওয়া হলে এ ধরনের আয়োজনের সার্থকতা আরও বাড়বে।