
স্টাফ রিপোর্টার : মানুষের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে শিক্ষার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। চিন্তার স্বাধীনতা, সৃজনশীল বুদ্ধিমত্তা ও চৌকস দৃষ্টিভঙ্গি এই অনুভূতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বিজ্ঞানেরও সম্পর্ক রয়েছে। বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিজ্ঞানমনস্ক শিশুদের খুঁজে বের করে পর্যবেক্ষণ, বাস্তবসম্মত চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। মানুষ ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে দেখে, শোনে, বিশ্লেষণ করে, পর্যবেক্ষণ করে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করে। সে কারণে অলিম্পিয়াডের সঙ্গে বিজ্ঞানের সম্পর্ককে নিবিড় বলা যায়।
অন্তর্দৃষ্টি ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় মানুষের মানসলোকের রহস্যময় অনুভূতি। অন্তর্দৃষ্টি কোনো জটিল বিষয় বা সমস্যার ভেতরের সত্য একপলকে অনুধাবনের ক্ষমতা। দীর্ঘ চিন্তার পর মস্তিষ্ক যখন তথ্য সাজিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, সেটিকে অন্তর্দৃষ্টি বলা হয়। অন্যদিকে, পঞ্চইন্দ্রিয়ের বাইরে অতিরিক্ত অনুভূতির উপস্থিতিকে ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলা হয়। একে অনেক সময় গাট ফিলিং বা ইনটুইশনও বলা হয়।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে অন্তর্দৃষ্টি ও ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়কে অলৌকিক বিষয় হিসেবে দেখা হয় না। স্নায়ুবিজ্ঞানের মতে, মস্তিষ্ক সচেতনতার আড়ালেও নানা তথ্য, স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও সূক্ষ্ম সংকেত প্রক্রিয়াজাত করে। নতুন পরিস্থিতিতে মস্তিষ্কের অবচেতন সিদ্ধান্ত অনেক সময় ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বা অন্তর্দৃষ্টি হিসেবে অনুভূত হয়।
মনোবিদদের মতে, ধ্যান, সচেতনতা, প্রকৃতি ও নীরবতার কাছাকাছি থাকা এবং শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে অন্তর্দৃষ্টি আরও ধারালো হতে পারে। কোনো সমস্যার সমাধানে মস্তিষ্ককে কিছুটা বিশ্রাম দিলে হঠাৎ প্রজ্ঞা বা অন্তর্দৃষ্টির উন্মেষ ঘটতে পারে।
বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের মুখস্থনির্ভরতার বাইরে গিয়ে বিজ্ঞানকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। এতে দৈনন্দিন জীবনের বিজ্ঞান, যুক্তি, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা হয়। এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের কৌতূহল ও পর্যবেক্ষণশক্তি বাড়ানো, চিন্তার স্বাধীনতাকে উৎসাহিত করা এবং বিজ্ঞানভীতি দূর করা।
সাধারণ পরীক্ষায় পানির স্ফুটনাঙ্ক মুখস্থ জানতে চাওয়া হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে ঠান্ডা ও গরম পানিভর্তি দুটি গ্লাসের কোনটির বাইরে পানির ফোঁটা জমবে এবং কেন—এ ধরনের পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভর প্রশ্ন করা হয়।
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার প্রধান মাধ্যম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এবং বিভিন্ন জাতীয় বিজ্ঞান মেলাতেও অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়। বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী প্রতিযোগীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাধারণত তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা শিশু ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা ও জেলা পর্যায়েও প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য অলিম্পিয়াড আয়োজন করা হয়।
ফ্রিজের ঠান্ডা বোতলের বাইরে পানির ফোঁটা জমে, কারণ বাতাসের জলীয় বাষ্প ঠান্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়। সকালে ছায়া লম্বা এবং দুপুরে ছোট হয় সূর্যের অবস্থানের কারণে। লবণ পানির ঘনত্ব বেশি হওয়ায় কাঁচা ডিম ভাসতে পারে, আর লোহার ঘনত্ব বেশি হওয়ায় পেরেক ডুবে যায়। পাতাকে উদ্ভিদের রান্নাঘর বলা হয়, কারণ সেখানে সূর্যালোক, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি ব্যবহার করে উদ্ভিদ খাবার তৈরি করে। জ্বলন্ত মোমবাতি গ্লাস দিয়ে ঢেকে দিলে অক্সিজেন কমে গিয়ে নিভে যায়।
এ ধরনের প্রশ্ন শিশুদের মুখস্থনির্ভরতার বাইরে গিয়ে চিন্তা করতে এবং চারপাশের সাধারণ বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে উৎসাহিত করে।