
দুপুরের সোনাঝরা রোদে আম কুড়ানোর দিনগুলোর স্মৃতি আজও চোখে ভাসে। পাকা আমের মিষ্টি গন্ধ, মায়ের বকাঝকা এবং বাড়ির পেছনের ঝোপঝাড়ে ঘেরা বাগানের রহস্যময় পরিবেশ শৈশবকে করে তুলেছিল মায়াবী। দুপুরের নিস্তব্ধতায় ঘর থেকে লুকিয়ে বেরিয়ে পড়া ছিল নিত্যদিনের আনন্দ।
ঝুম বৃষ্টির দিনে কাগজের নৌকা ভাসানো, ছাতা ছাড়াই পুকুরঘাটে গিয়ে কদম ফুল কুড়ানো এবং ব্যাঙের ডাক শোনার উচ্ছ্বাস ছিল আলাদা। কাঁচা আমে লবণ মেখে খাওয়ার টক-মিষ্টি স্বাদ, দুপুরের খাবার ফেলে মাঠে ঘুড়ি ওড়ানো, গোল্লাছুট খেলা এবং ধুলোবালি মেখে বাড়ি ফেরার পর মায়ের বকুনি—সব মিলিয়ে শৈশবের দিনগুলো ছিল আনন্দে ভরা।
বিকেলের নরম আলোয় বাড়ি ফেরার সেই সময়গুলো এখন রূপকথার কোনো অধ্যায়ের মতো মনে হয়। গাঁয়ের মেঠোপথ, দুপুরের চাতাল কিংবা বিকেলের মাঠে খেলার নিখাদ আনন্দ আজও স্মৃতিতে অমলিন। তখন জীবনের হিসাব ছিল সহজ; একমুঠো মুড়ি-গুড় বা গাছের পাকা আমেই মিলত পরম তৃপ্তি।
সময় গড়িয়ে শৈশবের বন্ধুরা পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের সঙ্গে যোগাযোগও নেই। তবু শ্রাবণের মেঘলা দিনে পুরনো গান শুনলে বা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে জানালার বাইরে তাকালে মন ফিরে যায় অতীতে। অতীত তখন কেবল সময় নয়, কঠিন বাস্তবতার মাঝেও স্বস্তি দেওয়ার এক আশ্রয় হয়ে ওঠে।
বর্ষাকালের চঞ্চল দুপুর, টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ, বারান্দার ঘোলা জলে কাগজের নৌকা ভাসানোর প্রতিযোগিতা—সবই আজকের যান্ত্রিক শহরে রূপকথার মতো মনে হয়। মায়ের শাসন এড়িয়ে আম কুড়ানো, সন্ধ্যায় হোমওয়ার্কের টেবিলে ঘুমিয়ে পড়া, শীতের সকালে কুয়াশা ভেদ করে মাঠে যাওয়া এবং দাদির মুখে রূপকথার গল্প শোনার স্মৃতিগুলো শৈশবকে করে রেখেছে অনন্য।