
চাঁদপুরের গ্রামগুলোতে এখন পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর ধুম পড়েছে। খাল-বিল, পুকুর ও জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়া, পানি থেকে আঁশ ছাড়ানো এবং সড়কের পাশে ভেজা আঁশ শুকাতে দেওয়ার দৃশ্য এখন নিত্যদিনের। রোদে শুকিয়ে রূপালী-সোনালি রঙ ধারণ করছে পাটের আঁশ। জেলার সদর, কচুয়া, ফরিদগঞ্জ, মতলব উত্তর ও দক্ষিণসহ বিভিন্ন উপজেলার নদী অববাহিকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ছে।
কৃষক আব্দুল করিম জানান, পাট কাটার পর নির্দিষ্ট সময় পানিতে জাগ দিয়ে রাখা হয়। এরপর পাটকাঠি থেকে আঁশ ছাড়িয়ে ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। অপর কৃষক দুলাল মজুমদার জানান, পাটকাঠি বড় আঁটি বেঁধে রাখা হচ্ছে। শুকানো পাট ভ্যান বা অটোরিকশায় করে স্থানীয় হাটে বিক্রির জন্য নেওয়া হচ্ছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী, কল্যাণপুর ও বিষ্ণুপুরসহ নদীতীরবর্তী এলাকার পাট চাষ সম্পর্কে স্থানীয় মেম্বার হারুন খান জানান, ধানসহ অন্যান্য ফসল ঘরে তোলার পর অনেক জমিতে কৃষকেরা পাট আবাদ করেছেন। এবার ফলন ভালো হয়েছে। তবে এখন কৃষকদের মূল প্রত্যাশা বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁদপুরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার আটটি উপজেলায় দেশি, তোষা, মেস্তা ও কেনাফ জাতের পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৮ হেক্টর। এ পরিমাণ জমি থেকে প্রায় ৬ হাজার ২২১ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন জানান, চাঁদপুরের মেঘনা, পদ্মা ও ডাকাতিয়া নদীর অববাহিকার পলিমাটি সমৃদ্ধ জমি পাট চাষের জন্য উপযোগী। বিশেষ করে চরাঞ্চলের জমিতে পাটের ফলন ভালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও পরামর্শ সেবা দেওয়া হচ্ছে।