
‘ফাতেহা’ অর্থ দোয়া বা ঈসালে সওয়াব এবং ফারসি ‘ইয়াজদাহম’ শব্দের অর্থ এগারো; অর্থাৎ এগারো তারিখের দোয়া বা ঈসালে সওয়াব।
রবিউস সানি মাসের ১১তম দিন ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হিসেবে পালিত হয়। হিজরি ৫৬১ সালের ১১ রবিউস সানি হজরত বড়পীর শেখ সায়েদ মহিউদ্দীন আবদুল কাদির জিলানি (রহ.) ইন্তেকাল করেন। সুফিবাদের অনুসারীদের কাছে দিনটি উর্দুতে ‘গেয়ারভী শরিফ’ নামেও পরিচিত।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম হজরত বড়পীর শেখ সায়েদ মহিউদ্দীন আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর ওফাত বা ইন্তেকাল দিবস। এ উপলক্ষে তাঁর রুহানি তাওয়াজ্জুহ লাভের আশায় পবিত্র কোরআন তিলওয়াত, জিকির-আজকার, মিলাদ, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সুফি ঘরানার মানুষেরা শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালন করে আসছেন।
কাদেরিয়া তরিকাভুক্ত মুরিদ ও ভক্তরা প্রতি হিজরি মাসের ১১ তারিখে গেয়ারভী শরিফের খতম ও মিলাদ মাহফিল পালন করেন। তাঁরা বড়পীরের রুহ মোবারকে সওয়াব রেসানি, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য দোয়া এবং তাঁর জীবনী ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করেন।
হিজরি চতুর্দশ শতকের মুজাদ্দিদ আলা হজরত ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা শাহ আহমদ রেজা খান বেরলভী (রহ.) ‘ফতোয়া-ই-রেজভীয়া’-এর ১০ম খণ্ডে গেয়ারভী শরিফ পালনকে শরিয়তসম্মত, উত্তম ও ভালো কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
‘বাহজাতুল আসরার’ ও ‘তাফসিরে নঈমী’সহ বিভিন্ন কিতাবে গেয়ারভী শরিফের তাৎপর্য, বড়পীরের মর্যাদা এবং তাঁর জীবনী ও শিক্ষার নানা দিক বর্ণিত হয়েছে। এসব বর্ণনায় নবীদের বিভিন্ন নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়, ইবাদত-বন্দেগি এবং বড়পীরের সঙ্গে ভক্তদের সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
বড়পীরের বাবা সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জঙ্গি এবং মা বিবি ফাতেমা। তিনি ৪৭০ হিজরিতে ইরানের জিলান নগরীতে ১ম রমজান জন্মগ্রহণ করেন। বাগদাদের হজরত আবু সাঈদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন মাখজুমি (রহ.)-এর কাছে বায়আত হয়ে তিনি মারফাতের জ্ঞান অর্জন, খেলাফত লাভ এবং কাদেরিয়া তরিকার প্রবর্তন করেন।
ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহমের রাতে গাউসে পাকের জীবনী আলোচনা, আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, কোরআন তিলওয়াত, মিলাদ-কিয়াম ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তাঁর রুহানি ফয়েজ কামনা করা হয়।