
বিএম ফরিদ আহমেদ : একদিকে সংস্কার-পরিচ্ছন্নতায় বদলে যাচ্ছে হাসপাতালের চিত্র, অন্যদিকে রোগী হয়রানি ও কথিত দালালদের তৎপরতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবার মানোন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগে দৃশ্যমান পরিবর্তন এলেও রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবার পথে মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতার অভিযোগ পুরোপুরি কাটেনি। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি রোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুন্নবী মাসুম দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের পরিবেশ ও রোগীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ। জরাজীর্ণ টয়লেট সংস্কার, ময়লা-আবর্জনায় ভরা ড্রেন পরিষ্কার এবং দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্ন স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। জরুরি বিভাগে রোগীদের অবস্থানের সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া হাসপাতালের ছাদের ক্ষতিগ্রস্ত টিন সংস্কার করে বৃষ্টির পানি পড়ার সমস্যা সমাধান করা হয়েছে। রোগীদের সেবা গ্রহণ সহজ করতে বিনামূল্যে টিকা কার্ড দেওয়াসহ নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জনবান্ধব উদ্যোগ। এসব কার্যক্রমে হাসপাতালের পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতাদের অনেকে।
বাবুল নামের রোগীর স্বজন বলেন, আগের তুলনায় এখন হাসপাতালের পরিবেশ অনেক ভালো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীদের জন্য পরিবেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
তবে হাসপাতালের উন্নত পরিবেশের পাশাপাশি কথিত দালালদের তৎপরতা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা নিতে এসে কেউ কেউ পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে হাসপাতালের বাইরের ব্যক্তিদের প্রভাবের মুখোমুখি হন। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা বিভ্রান্ত ও ভোগান্তির শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় একজন বলেন, হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসা ও রোগীসেবার পরিবেশ যখন উন্নত করার চেষ্টা চলছে, তখন রোগীদের ঘিরে বাইরের কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব থাকলে সেই সুফল কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে?
স্থানীয়দের দাবি, রোগীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো ধরনের তৎপরতা থাকলে তা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগী যেন সরাসরি হাসপাতাল থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা পান, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিচ্ছন্নতা, অবকাঠামো ও রোগীবান্ধব পরিবেশ তৈরির যে উদ্যোগ হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুরু হয়েছে, তা ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখার পাশাপাশি রোগীদের হয়রানি ও কথিত দালালদের তৎপরতার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর মানুষের আস্থা আরও বাড়তে পারে।
দালালদের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা, মাহমুদুন্নবী মাসুম বলেন , খুব দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করবো।