1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রার্থী কাজী জাকির হোসেন শাহমাহমুদপুরে শিক্ষক শাহনেওয়াজ খানের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা শাহরাস্তিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওয়াকওয়েতে আড্ডা, আটক ১৬ শিক্ষার্থী বাবুরহাট কলেজে মকবুল-রাজিয়া ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান চাঁদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের উন্নয়নে সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেব: শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি চাঁদপুর জেলা পরিষদ পরিদর্শনে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি চাঁদপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৫২ জেলে চাঁদপুরে মাদকসহ গ্রেফতার ১১, কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৭৬ চাঁদপুরে ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা ফরিদগঞ্জে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে ভোটারদের ভাবনা ও হিসাব-নিকাশ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২৩ বার পড়া হয়েছে
শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নে ভোটারদের ভাবনা ও হিসাব-নিকাশ

রাসেল গাজী: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। গত পাঁচ বছর ধরে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাধারণ ওয়ার্ডের মেম্বার (সদস্য) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জনপ্রতিনিধিরা তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা রক্ষা করতে পেরেছেন- তা নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, বিগত মেয়াদে উন্নয়নের যে জোয়ার দেখানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন কতটুকু হয়েছে? আর এই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ভোটাররা তাদের পুনরায় ক্ষমতায় দেখতে চান কি না।

পাঁচ বছর আগে যখন বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা ভোটের মাঠে নেমেছিলেন, তখন তাদের প্রচারণায় ছিল নানা প্রতিশ্রুতি। রাস্তাঘাট পাকা করা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ গঠন, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ নাগরিক সেবা সহজ করা এবং অতিদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি সাহায্য সঠিক স্থানে পৌঁছানোর জোরালো আশ্বাস দিয়েছিলেন প্রার্থীরা।

তবে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। অনেক এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচিত হওয়ার পর অনেক জনপ্রতিনিধিই সাধারণ মানুষের থেকে দূরে সরে গেছেন। কিছু এলাকায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হলেও ইউনিয়নের কিছু ওয়ার্ডে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং খানাখন্দ ভরা রাস্তাঘাট সংস্কারের দীর্ঘসূত্রতা সাধারণ ভোটারদের হতাশ করেছে।

ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা আমাদের এলাকার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু পাঁচ বছর পরও সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাইনি। আমাদের ওয়ার্ডের কিছু এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে, আবার কিছু সমস্যা এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ রয়েছে। আমরা জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চাই না, তবে তারা কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন, তার হিসাব জনগণের সামনে থাকা দরকার।

তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচনে আমরা এমন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি শুধু নির্বাচনের সময় নয়, পুরো মেয়াদে সাধারণ মানুষের পাশে থাকবেন। এলাকার বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে কাজ করবেন এবং জনগণের কাছে নিজের কাজের জবাবদিহি করবেন।

অন্যদিকে, কিছু ব্যতিক্রমী চিত্রও রয়েছে। যেসব প্রতিনিধি ব্যক্তিগত সততা বজায় রেখে এবং দলমত নির্বিশেষে সবার সেবা নিশ্চিত করেছেন, তাদের প্রশংসাও করছেন এলাকাবাসী। প্রাকৃতিক দুর্যোগে যারা সাধারণ মানুষের পাশে ছিলেন, তাদের জনপ্রিয়তা এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বললে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার জানান, যাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম, তারা গত পাঁচ বছরে আমাদের খোঁজখবর খুব একটা নেননি। ভোটের আগে নানা কথা বললেও নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের নাগাল পাওয়া যেত না। তাই এবার আমরা পরিবর্তন চাই এবং এমন প্রার্থীকে বেছে নেব যিনি সত্যিকার অর্থেই জনদরদী।

শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য কবির হোসেন রনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেও দলীয়করণের কারণে জনগণের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়নমূলক বরাদ্দ পাইনি। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্টের পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক ও কার্যক্রমগত নানা জটিলতা তৈরি হয়। এ কারণেও চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় ভোটারদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দায়বদ্ধতা আমাদের রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও কার্যকর প্রশাসনিক সহযোগিতা না থাকায় অনেক কাজই কাঙ্ক্ষিতভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। আমি আশাবাদী, বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের পুনরায় নির্বাচিত হয়ে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা আরও পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে পারবেন। জনগণের প্রয়োজন ও এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তারা আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

পক্ষান্তরে, অন্য একদল ভোটার মনে করেন, পাঁচ বছরের মেয়াদ ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট নয়। অনেক সময় সরকারি বরাদ্দ দেরিতে আসার কারণে সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই ভালো কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পুরোনো অভিজ্ঞ মুখগুলোকেই তারা আবার ক্ষমতায় দেখতে চান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচনটি কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি মূলত জবাবদিহিতার একটি বড় পরীক্ষা। বিগত পাঁচ বছরের কাজের চুলচেরা হিসাব কষেই ভোটাররা এবার ভোটকেন্দ্রে যাবেন। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারা জনপ্রতিনিধিদের জন্য ভোটবাক্সে কঠিন বার্তা অপেক্ষা করছে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট