
কালো বৃষ্টি একটি বিরল আবহাওয়া সংক্রান্ত ঘটনা, যাতে বৃষ্টির পানি কালো বা গাঢ় রঙের হয়ে পড়ে। এতে ছাই, তেলের ফোঁটা, শিল্প নির্গমন, এমনকি তেজস্ক্রিয় পদার্থের মতো অমেধ্য বা দূষণকারী উপাদান থাকতে পারে।
যুক্তরাজ্যের লিসেস্টার ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী আন্না হ্যানসেলের মতে, তেলের খনিতে আগুন লাগলে ঘন ও অপরিশোধিত তেল পোড়ার কারণে বিপুল পরিমাণ পোড়া ও আধাপোড়া কার্বন কণা বা কালি তৈরি হয়। এসব কণা ধোঁয়ার সঙ্গে আকাশে উঠে যায়। পরে বৃষ্টির ফোঁটা ওই দূষিত ধোঁয়ার স্তর অতিক্রম করে নিচে নামার সময় কালো কালি ও বিষাক্ত কণা মাটিতে নিয়ে আসে। এর ফলে বৃষ্টির পানি কালো হয়ে যায়।
বায়ু মারাত্মকভাবে দূষিত হলে কালো বৃষ্টি হতে পারে। আগ্নেয়গিরির ছাই, বনের আগুন, শিল্প নির্গমন, বড় ধরনের তেলক্ষেত্রের আগুন কিংবা পারমাণবিক বিস্ফোরণ থেকে ছড়িয়ে পড়া কণা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হওয়ার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। পরে এসব কণাকে সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে পড়ে এবং পানি কালো বা গাঢ় দেখায়।
চলতি বছর ৮ মার্চ সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে আগের রাতে তেল সংরক্ষণাগারে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢেকে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের আগুন থেকে তৈরি কালো ধোঁয়া কয়েক কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে তেহরানের যানবাহন, ছাদ ও রাস্তায় কালো তেলের মতো স্তর জমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন কঠিন হয়ে পড়ে।
উনিশ শতকে ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের সময় কয়লার ধোঁয়ার কারণে কালো বা ধূসর বৃষ্টির ঘটনা রেকর্ড করা হয়। ১৯৪৫ সালের আগস্টে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার পরও কালো বৃষ্টি দেখা দেয়। বিস্ফোরণের ধোঁয়া, ছাই, ধুলো, আগুনের কালি ও তেজস্ক্রিয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে নেমে আসে।
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কুয়েত, ইরান, ইরাক, সিরিয়া ও তুর্কিয়েতেও তেলকূপের আগুনের কারণে কালো বৃষ্টিপাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে আমাজন রেইনফরেস্টের আগুনের ধোঁয়া ও ধুলো থেকেও এমন বৃষ্টির ঘটনা ঘটে।
কালো বৃষ্টির দূষণকারী কণা বয়স্ক, শিশু, হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশি ক্ষতি করতে পারে। গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে বিষাক্ত বায়ু দূষণের সংস্পর্শে অকাল জন্ম বা কম ওজনের শিশুর জন্মের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এসব কণার সংস্পর্শ ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্নায়বিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কালো বৃষ্টি প্রাকৃতিক পানির উৎস দূষিত করে জলজ প্রাণী, অন্যান্য প্রাণী এবং ওই পানি ব্যবহারকারী মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দূষণকারী পদার্থ ভবন, রাস্তা ও যানবাহনে জমে থাকে; পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর বাতাসের মাধ্যমে সেগুলো আবার ছড়িয়ে পড়তে পারে।