
চাঁদপুর-হাইমচর সড়কের দোকানঘর চৌরাস্তা থেকে পুরানবাজার লোহারপুল পর্যন্ত ১ হাজার ৯০০ মিটার সড়কের মধ্যে ১ হাজার ১০০ মিটারের সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু বাকি ৮০০ মিটারের সংস্কারকাজ শেষ না হওয়ায় ওই অংশটি স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের অসমাপ্ত অংশের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা এখন সময়ের দাবি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর ধরে সড়কটির অবস্থা খারাপ। গত এক বছরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে অসংখ্য গর্ত, যাতে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ও কাদা জমে যায়। এতে যানবাহন ও পথচারী চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বয়োবৃদ্ধ ও সাধারণ মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে; যানবাহন মিললেও তাদের অতিরিক্ত ভাড়া দিতে হচ্ছে।
যানবাহন চালকদের অভিযোগ, সড়কের দুরবস্থায় প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক্রেতারা বিকল্প পথে চলাচল করায় তাদের লেনদেন কমেছে। ফলে অসমাপ্ত সংস্কারকাজের প্রভাব যোগাযোগ, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়ছে।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাকি ৮০০ মিটারের কাজ শেষ করতে ‘পিএমপি (মেজর) সড়ক’ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা। অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় প্রস্তাব ও অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচিত নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্ভব হলে কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া। একই সঙ্গে সংস্কারকাজের মান নিশ্চিত এবং কাজ চলাকালে জনদুর্ভোগ কমাতে বিকল্প বা নিয়ন্ত্রিত যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
চাঁদপুর-হাইমচর সড়কটি স্থানীয় যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাকি ৮০০ মিটারের সংস্কারকে জননিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।