1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রার্থী কাজী জাকির হোসেন শাহমাহমুদপুরে শিক্ষক শাহনেওয়াজ খানের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা শাহরাস্তিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওয়াকওয়েতে আড্ডা, আটক ১৬ শিক্ষার্থী বাবুরহাট কলেজে মকবুল-রাজিয়া ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান চাঁদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের উন্নয়নে সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেব: শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি চাঁদপুর জেলা পরিষদ পরিদর্শনে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি চাঁদপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৫২ জেলে চাঁদপুরে মাদকসহ গ্রেফতার ১১, কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৭৬ চাঁদপুরে ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা ফরিদগঞ্জে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

আবির্ভাব ও বিলুপ্তির অন্তরালে

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আবির্ভাব ও বিলুপ্তির অন্তরালে

কোনো কিছু হারিয়ে যাওয়ার আগে তার কোনো শব্দ হয় না। চিঠি ধীরে ধীরে কমে একসময় বন্ধ হয়ে যায়, পরিবারের একসঙ্গে বসার সময় কমে আসে, পুরোনো শব্দ নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা হয়ে যায় এবং পারিবারিক কোনো রীতি বন্ধ হয়ে গেলে তা অনেক সময় আর ফিরে আসে না। বিলুপ্তি তাই সব সময় দৃশ্যমান ঘটনা নয়; অভ্যাসের পরিবর্তনের ভেতর দিয়েও তা নীরবে আসে।

একসময় আজকের বাংলাদেশ ছিল পূর্ব পাকিস্তান। সেই সময়ে শৈশব ও কৈশোর কাটানোর পর ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে জাপানে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় ঘটে। প্রায় চার দশকের প্রবাসজীবনে দুই দেশের জীবনযাত্রার পার্থক্যের পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন, যোগাযোগ, সম্পর্ক ও চিন্তার পরিবর্তনও দেখা গেছে।

একসময় দূরের মানুষের খবর পেতে চিঠির জন্য কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতো। এখন পৃথিবীর অন্য প্রান্তের মানুষকে কয়েক সেকেন্ডে দেখা, কথা বলা ও বার্তা পাঠানো যায়। প্রযুক্তি জীবনকে সহজ করেছে, তবে এর দ্রুততার সঙ্গে কিছু ধীর, স্থির ও মানবিক অভ্যাসও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টি প্রযুক্তি গ্রহণ করা হবে কি না, তা নয়; নতুনকে গ্রহণের সময় পুরোনোর কোন মূল্যবান অংশগুলো ধরে রাখা দরকার, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

যোগাযোগের বদল

চিঠি শুধু কাগজ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অপেক্ষা, হাতের লেখা, নিজের কথা গুছিয়ে বলার সময় এবং প্রাপকের কাছে পৌঁছানোর ব্যক্তিগত অনুভূতি। মোবাইল ফোন, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভয়েস ও ভিডিও কল সেই জায়গার অনেকটাই নিয়েছে। এতে দূরত্ব, সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে খরচ কমেছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সাধারণ চিঠিপত্রের সেবা চালু রাখলেও দৈনন্দিন ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম আর চিঠি নয়।

একটি মাধ্যম বদলে যাওয়াই সমস্যা নয়; সমস্যা তখনই, যখন তার সঙ্গে কোনো গুরুত্বপূর্ণ মূল্য হারিয়ে যায়। দ্রুত বার্তা খবর পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু সব সময় গভীর বোঝাপড়া তৈরি করে না। প্রযুক্তি মুখোমুখি কথা বলা, মন দিয়ে শোনা বা পরিবারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজন শেষ করেনি।

প্রজন্মের স্মৃতি ও অভিজ্ঞতা

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে শোনা গ্রামের গল্প, পারিবারিক ইতিহাস, কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা, পূর্বপুরুষদের সংগ্রাম কিংবা ভুল থেকে পাওয়া শিক্ষা লিখিতভাবে সংরক্ষিত না হলে একজন মানুষের জীবনাবসানের সঙ্গে হারিয়ে যেতে পারে। একই ঘরে বসে পরিবারের সবাই নিজ নিজ পর্দায় ব্যস্ত থাকার দৃশ্য এখন অস্বাভাবিক নয়। এর পেছনে প্রযুক্তির পাশাপাশি জীবনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ, শহুরে জীবন ও বদলে যাওয়া পারিবারিক কাঠামোও ভূমিকা রাখে।

UNESCO-এর বক্তব্য অনুযায়ী, সাংস্কৃতিক জ্ঞান ও দক্ষতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে আন্তঃপ্রজন্ম যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিবারের প্রবীণদের জীবনের গল্প শোনা, প্রয়োজনীয় স্মৃতি লিখে রাখা এবং সন্তানদের সঙ্গে তা ভাগ করা পারিবারিক ও সামাজিক স্মৃতি সংরক্ষণের একটি উপায়।

তথ্যের প্রাচুর্য ও বিচারবোধ

আগে তথ্য পেতে বই, পত্রিকা, লাইব্রেরি বা অভিজ্ঞ মানুষের কাছে যেতে হতো। এখন কয়েক সেকেন্ডে নানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়। তবে তথ্যের প্রাচুর্য জ্ঞানের নিশ্চয়তা নয়। কোন তথ্য সত্য, প্রাসঙ্গিক, ব্যবহারযোগ্য বা বিভ্রান্তিকর—তা বোঝার ক্ষমতা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাই পড়ার অভ্যাস, চিন্তার সময়, ধৈর্য ও বিচারবোধের প্রয়োজন কমেনি; বরং বেড়েছে।

পুরোনো মানেই ভালো এবং নতুন মানেই খারাপ—এ ধারণা যেমন ঠিক নয়, তেমনি নতুন এসেছে বলে পুরোনো সবকিছুকে অপ্রয়োজনীয় ভাবাও ঠিক নয়। অতীতের সীমাবদ্ধতা ছিল, আবার আধুনিক জীবন গ্রহণের অর্থও অতীতের প্রতিটি অভ্যাসকে বাতিল করা নয়।

ভাষা, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ

একটি ভাষা হারিয়ে গেলে শুধু কিছু শব্দ নয়, একটি জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও প্রজন্মান্তরে বহন করা জ্ঞানের অংশও হারাতে পারে। UNESCO-এর ভাষা-সংক্রান্ত গবেষণায়ও ভাষা হারানোর সঙ্গে সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক ও পরিবেশগত জ্ঞানের ক্ষতির কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় শব্দের ব্যবহার বন্ধ হওয়া, লোকজ জ্ঞান শেখানো না হওয়া বা পারিবারিক রীতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অজানা থাকা—এসব পরিবর্তন সব সময় সংবাদ বা পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না।

সব পুরোনো শব্দ, রীতি বা অভ্যাস জোর করে ধরে রাখার প্রয়োজন নেই। ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা বদলাবে। তবে স্বাভাবিক পরিবর্তন ও অবহেলায় হারিয়ে যাওয়াকে এক করে দেখা যায় না। কোনটি বদলাবে এবং কোনটির মূল্য ভবিষ্যতের জন্যও থাকবে, সেই পার্থক্য বোঝা জরুরি।

পরবর্তী প্রজন্মের হাতে শুধু নতুন প্রযুক্তি, দক্ষতা ও তথ্য তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদের পরিবারের ইতিহাস, ভাষার মূল্য, বয়োজ্যেষ্ঠদের অভিজ্ঞতা ও জীবনের বাস্তব শিক্ষা জানানো দরকার। বয়োজ্যেষ্ঠদেরও সাফল্যের পাশাপাশি ভুল, ব্যর্থতা ও সেখান থেকে পাওয়া শিক্ষা ভাগ করে নিতে হবে।

প্রযুক্তি পরবর্তী প্রজন্মকে বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত করবে, আর অভিজ্ঞতা তাদের পরিবার, সমাজ ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। তাই নতুনকে গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুরোনোকে অবহেলায় হারিয়ে যেতে না দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। আবির্ভাব ও পরিবর্তন চলবে; দায়িত্ব হলো সেই পরিবর্তনের অন্তরালে কী হারিয়ে যাচ্ছে, তা চিনে নেওয়া।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট