
ফরিদগঞ্জের হাফছা আক্তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ইচ্ছাশক্তি, সাহস ও স্বপ্নের শক্তিতে এগিয়ে চলেছেন। তাঁর চলার পথ কঠিন হলেও প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে তিনি প্রমাণ করেছেন, শরীরের সীমাবদ্ধতা মানুষের সম্ভাবনার সীমা নয়।
শিশুকালে অসুস্থতার কারণে কোমরের নিচের অংশ অকার্যকর হয়ে যাওয়ার পর তাঁর জীবন কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে বারবার পড়ে গেলেও পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। দূরের স্কুল-কলেজে কখনো হেঁটে, কখনো ভাঙাচুরা যানবাহনে, আবার কখনো অন্যের সহায়তায় পৌঁছেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সেই কষ্টকর পথ পেরিয়েই তিনি উচ্চশিক্ষা, শিক্ষকতা ও জাতীয় সম্মানের পর্যায়ে পৌঁছান।
২০০৫ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হ্যান্ডি ম্যারাথনে বিশ্বের ২৫১ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হন হাফছা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড্ডীন করার পর ২০০৬ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দূরবর্তী কর্মস্থলে যাতায়াত, সংসার, সন্তান, শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নিজের স্বপ্নও ধরে রাখেন।
বিভাগীয় পর্যায়ে জয়িতা পুরস্কার এবং বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বিশেষ গুণী শিক্ষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা তাঁর সাফল্যের স্বীকৃতি। তাঁর এই অর্জন ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিবন্ধী মানুষের সক্ষমতা ও মর্যাদার বিষয়টিও সামনে এনেছে।
হাফছার জীবনে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতি (বিপিকেএস) এবং স্থানীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন চাঁদপুর-ডিপিওডির সহযোগিতার কথাও উল্লেখযোগ্য। তাঁর সাফল্য দেখিয়েছে, ব্যক্তিগত অধ্যবসায়ের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও সহায়ক প্রতিষ্ঠানের ইতিবাচক ভূমিকা থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজেদের জীবন বদলানোর পাশাপাশি সমাজেও অবদান রাখতে পারেন।
হাফছা চান, তাঁর মতো অবহেলিত ও ভাগ্যবঞ্চিত প্রতিবন্ধী মানুষ শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুক। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাচল, প্রযুক্তি, সামাজিক নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তাঁর জীবন তুলে ধরে।
হাফছার আহ্বান, প্রতিবন্ধীদের দয়ার চোখে না দেখে সমাজের মূল স্রোতধারায় আসার সুযোগ দিতে হবে। ফরিদগঞ্জের এই শিক্ষক ও উদ্যোক্তার জীবন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে মানুষের জয়যাত্রার প্রতীক হয়ে উঠেছে।