1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রার্থী কাজী জাকির হোসেন শাহমাহমুদপুরে শিক্ষক শাহনেওয়াজ খানের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা শাহরাস্তিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওয়াকওয়েতে আড্ডা, আটক ১৬ শিক্ষার্থী বাবুরহাট কলেজে মকবুল-রাজিয়া ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান চাঁদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের উন্নয়নে সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেব: শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি চাঁদপুর জেলা পরিষদ পরিদর্শনে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি চাঁদপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৫২ জেলে চাঁদপুরে মাদকসহ গ্রেফতার ১১, কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৭৬ চাঁদপুরে ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা ফরিদগঞ্জে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

অতীতের তুলনায় এমন অভিযান বিরল

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে
অতীতের তুলনায় এমন অভিযান বিরল

মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষা, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার অপরিহার্য শর্ত। এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ বিক্রি, মজুদ ও রান্না করে পরিবেশনের অভিযোগের মধ্যে চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মাছঘাট ও লঞ্চঘাট এলাকায় জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে আটটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা এবং প্রায় ৯৫ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। অতীতের তুলনায় এমন অভিযান বিরল হওয়ায় এর গুরুত্ব বেশি; তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে এ ধরনের তৎপরতার ধারাবাহিকতা, কার্যকারিতা ও বিস্তৃতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গত ৯ অক্টোবর ২০২৬ শুক্রবার বিকেলে পরিচালিত অভিযানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ বিক্রি ও মজুদের দায়ে আটটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। জব্দ করা মাছ স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়েছে। এতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কঠোরতার পাশাপাশি জব্দকৃত মাছ ব্যবহারের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে।

তবে এক দিনের অভিযান, কয়েকটি জরিমানা বা কিছু মাছ জব্দ করলেই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। অনেক ক্ষেত্রে অভিযানের পর সাময়িকভাবে অনিয়ম বন্ধ থাকলেও তদারকি শিথিল হলে তা আবার ফিরে আসতে পারে। জরিমানাকে অনিয়মের খরচ হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা ঠেকাতে একই এলাকায় নিয়মিত ও আকস্মিক পুনরায় অভিযান প্রয়োজন।

নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন

যে মাছঘাট, বাজার, হোটেল বা রেস্তোরাঁয় অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে, সেখানে পরবর্তী সময়ে আরও নিবিড় নজরদারি দরকার। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আইন মেনে চলছে কি না, নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ মজুদ করছে কি না কিংবা অন্য উপায়ে অবৈধ ব্যবসা চালাচ্ছে কি না—তা যাচাই করতে হবে।

হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতিরও দায়িত্ব রয়েছে। নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ কেনা, মজুদ, রান্না বা পরিবেশন না করার বিষয়ে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে কার্যকর অঙ্গীকার নেওয়া প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠান নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে সমিতির সাংগঠনিক ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ তদারকি সরকারি নজরদারি ও আইন প্রয়োগের বিকল্প নয়।

বড় স্টেশন মাছঘাট ও লঞ্চঘাটের পাশাপাশি শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান, মাছের আড়ত, গুদাম ও সম্ভাব্য মজুদকেন্দ্রগুলোকে নজরদারির আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজন হলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন স্থানে আকস্মিক অভিযান চালাতে হবে। চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলা, স্থানীয় মাছবাজার, নদীতীরবর্তী এলাকা, আড়ত, পরিবহনকেন্দ্র এবং সম্ভাব্য মজুদস্থলেও নজরদারি জোরদার করা দরকার।

কোথাও নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা, কেনাবেচা, পরিবহন, মজুদ বা রান্না করে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত অভিযান কার্যকর না হলে অসাধু ব্যবসায়ীরা তৎপরতার স্থান পরিবর্তন করে নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য ব্যাহত করতে পারে।

তদারকি ও সচেতনতা একসঙ্গে জরুরি

কোন প্রতিষ্ঠান কখন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করেছে, কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সুসংগঠিত নথি থাকা প্রয়োজন। একই প্রতিষ্ঠান পুনরায় অপরাধ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ কেনা বা রেস্তোরাঁয় ইলিশের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে সচেতন করা দরকার।

মা ইলিশ রক্ষার সঙ্গে দেশের মৎস্যসম্পদের ভবিষ্যৎ, জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ জড়িত। তাই জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আইন প্রয়োগ জরুরি। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের অভিযান দেখিয়েছে, সমন্বিত উদ্যোগে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এখন এ উদ্যোগকে নিয়মিত, দৃশ্যমান ও সর্বব্যাপী করা প্রয়োজন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট