
মতলব উত্তর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিণা গ্রামে স্কুলে যাওয়ার পথে স্কুলছাত্রীকে ইভটিজিং করতো ফাহিম, সাফিন, রিফাত, রিয়াদ ও মেহেদী নামের কয়েকজন বখাটে যুবক। মেয়েকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় পিতা জাকির মিয়াজীকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যা করেছে ওই বখাটে যুবকরা। প্রায় ১৩ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় আজ রবিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাকির হোসেন মৃত্যুবরণ করেন।
জানা গেছে, কৃষক জাকির হোসেনের মেয়ে সাকিবা আক্তার (১৫) নিশ্চিন্তপুর হাইস্কুলে ৯ম শ্রেনীতে পড়ালেখা করে। মেয়েটি স্কুলে আসা যাওয়ার সময় কিংবা বাজারে যাওয়ার সময় রাস্তায় দেখলেই নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির মিয়াজীর ছেলে ফাহিম, আইনুল ফকিরের ছেলে সাফিন, নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত, মহসিনের ছেলে রিয়াদ ও অজ্ঞাত পরিচয়ের মেহেদী উত্ত্যক্ত করতো। মেয়েটি বাড়িতে এসে তার পিতা মাতাকে অবগত করে। এরপর তার পিতা জাকির হোসেন তাদের বিরুদ্ধে স্কুলে লিখিত অভিযোগ করেন। এই সুত্র ধরে বখাটে ছেলেরা গত ২৩ ফেব্রুয়ারী জাকির হোসেনকে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে। ওই সময় আহত জাকিরকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল হাসপালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ওই যুবকদের বিবাদী করে জাকির মিয়াজীর ছোট ভাই হোসেন মিয়াজী বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল হাসপালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাকির হোসেন মৃত্যুবরণ করলে তার মৃতদেহ এলাকায় পৌছলে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং এ হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। সংবাদ পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে। দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার করা হবে।
# আরাফাত আল-আমিন