বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ওই বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষিত হয়েছে বলে দাবী ব্যবসায়ীদের।
নিহত শ্রমিক আক্তার হোসেনের বাড়ি পাশবর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ওই বাজারের শাহ আলমের অটোরিকশার গ্যারেজের কর্মাচারী এবং রাতে জুয়েল রানার অটো পার্টসের দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আনুমানিক ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে-ইউসুফ আলীর স্যানেটারি দোকান, নূর মোহাম্মদের ফার্নিচার ও জুয়েল রানার অটো পার্টসের দোকান। এছাড়াও আনোয়ার হোসেন, ইসরাফিল মিয়া ও মোহাম্মদ নুরুল আলমের দোকানের আংশিক পুড়ে যায়।
বাজারের লোকজন জানায়, প্রতিদিনের মতো সেদিন রাতেও নিহত আক্তার জুয়েল রানার অটো পার্টসের দোকানে ঘুমিয়ে ছিলেন। দোকানটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় আগুন লাগার পর তিনি বের হতে পারেননি। পরে ভস্মীভূত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে তাদের দোকানের সব মালামাল ও নগদ অর্থ পুড়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় ২৫ লাখ টাকা। অনেকেই জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। তারা সরকারের কাছে দ্রুত সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
বাজার ব্যবসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হোসেন ইমাম মুন্সী বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা কামনা করছি।
শাহরাস্তি ফয়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আবু হাসান খান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তদন্ত করলে আগুনের প্রকৃত কারণ জানাযাবে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।