
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সময় বদলেছে, দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় এসেছে বড় পরিবর্তন। রাষ্ট্র ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরেও তৈরি হয়েছে নতুন বাস্তবতা। এমন একটি পরিবর্তনশীল সময়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমে যখন নানা ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তখনও নাগরিক সেবার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন পরিষদ।
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক সেবার জন্য প্রতিদিনই পরিষদে আসছেন ইউনিয়নের মানুষ। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন তো থেমে থাকে না। একজন নাগরিকের জন্মনিবন্ধন প্রয়োজন, কারও নাগরিক সনদ প্রয়োজন, কারও প্রয়োজন ওয়ারিশ সনদ কিংবা অন্য কোনো প্রশাসনিক সহায়তা। এসব মৌলিক সেবা যেন কোনো পরিস্থিতিতেই বাধাগ্রস্ত না হয়—এটাই মানুষের প্রত্যাশা।
সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনীয় কাজের জন্য পরিষদে এসে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
রামপুর ইউনিয়নের এক সেবাগ্রহীতা বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ রাজনীতির হিসাব বুঝি না। আমাদের প্রয়োজন হলো প্রয়োজনের সময়ে পরিষদ থেকে সেবা পাওয়া। পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেও পরিষদের কাজ চালু থাকা এবং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পাওয়া আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয়।
আরেক সেবাগ্রহীতা তাহমিনা বলেন, আগেও পরিষদ থেকে আমরা সেবা পেয়েছি। এখনো নিয়মিত সেবা পাচ্ছি। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতেও কোনো নাগরিক যাতে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
পরিষদ সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সক্ষমতার পরীক্ষা হয় শুধু স্বাভাবিক সময়ে নয় পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও প্রতিষ্ঠানটি কতটা স্থিরভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
নাগরিকদের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাস্তবতায় যত পরিবর্তনই আসুক, ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিকসেবায় তার প্রভাব যেন না পড়ে। প্রয়োজনীয় সেবা, তথ্য ও প্রশাসনিক সহযোগিতা নিয়মতান্ত্রিকভাবে অব্যাহত থাকবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা। সে দিক থেকে রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান অবস্থানকে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।