
মাদক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিনের অভিযান, গ্রেপ্তার ও মামলা সত্ত্বেও বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এই বাস্তবতায় হাজীগঞ্জ উপজেলাকে পর্যায়ক্রমে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনে আল জায়েদ হোসেনের প্রস্তাবে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন থেকে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে; পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়নকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
হাজীগঞ্জের মাদক-বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার, মজুদ, বিক্রি ও সেবন নিয়ে দীর্ঘদিনের বদনাম রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু পরিবর্তন এলেও পুরোনো পরিচয় একদিনে মুছে যাওয়ার নয়। তাই মাদকমুক্ত হাজীগঞ্জ গড়ার উদ্যোগকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সামাজিক প্রত্যয় হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মাদক ব্যবসার অর্থনৈতিক স্বার্থ, সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক, প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং তরুণদের একটি অংশের আসক্তি পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। মাদকসেবীদের শুধু অপরাধী হিসেবে না দেখে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং, পরিবারকে সম্পৃক্ত করা এবং পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক বিক্রি ও পাচারের বিরুদ্ধে আইনের নিরপেক্ষ ও দৃঢ় প্রয়োগ জরুরি।
সভায় কিশোর-তরুণদের মধ্যে ভুল ওষুধ বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধ সেবনের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ উঠে এসেছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রমে তরুণদের স্বাস্থ্য, মানসিক সুস্থতা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও নিরাপদ বিনোদনের সুযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা এবং হাজীগঞ্জকে মাদকমুক্ত করার উদ্যোগকে বৃহত্তর সামাজিক শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে ধারাবাহিক বাস্তবায়ন, ন্যায়সংগত প্রয়োগ এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের ওপর।
বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন থেকে শুরু হওয়া কার্যক্রমে মাদক ব্যবসার পথ বন্ধ করা, মাদকসেবীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে—এমন আস্থা তৈরি করাও প্রয়োজন।