
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম বদরপুর গ্রামের আনিস ভূঁইয়া বাড়িতে নিজ ঘরের বাইরে ইউসুফ আলী মাস্টারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহের মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল এবং দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মাছি ও পোকামাকড় দেখা যায়।
খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ, এসআই আমজাদ আলী চৌধুরীসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
নিহতের ভাই খোকন ভূঁইয়া জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনি ও তার ভাইসহ কয়েকজন আত্মীয় স্থানীয় হারুনের দোকানে একসঙ্গে চা পান করেন। এরপর ইউসুফ আলী বাড়িতে ফিরে যান। তারপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, প্রায় দুই বছর আগে ইউসুফ আলীর স্ত্রী মারা যান। এরপর থেকে তিনি বাড়িতে একাই থাকতেন। তার তিন মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন। একমাত্র ছেলে মেজ মেয়ের বাড়িতে থেকে মাদ্রাসার নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
নিহতের মেজ মেয়ে রেহানা বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং স্ট্রোকের রোগী ছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি বাবার জন্য খাবার পাঠাতে পারেননি। একাধিকবার ফোন করলেও বাবা ফোন ধরেননি। শুক্রবার বাড়িতে এসে বাবার মরদেহ দেখতে পান।
বাবাকে কেউ হত্যা করেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার বাবার কোনো শত্রু ছিল না এবং তিনি বিশ্বাস করেন, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েই তার মৃত্যু হয়েছে।
ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ এরশাদ উল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।