
এ ঘটনায় প্রতিকার ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী মো. রেজাউল করিম। অভিযোগের অনুলিপি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের কাছেও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রের ওপর চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক পুলিশ সুপারকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্বাক্ষর করেছেন বলেও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগপত্রে রেজাউল করিম দাবি করেন, গত কয়েক মাস ধরে হাজীগঞ্জ থানায় ডিএসবিতে কর্মরত কনস্টেবল রিয়াদ হোসেন তাঁর ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে টাকা দাবি করে আসছেন। টাকা না দিলে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো, ডিবির মাধ্যমে আটক এবং মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ব্যবসায়ীর দাবি, এসব ভয়ভীতির কারণে তিনি প্রথমে ১০ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৫ হাজার টাকা দেন। এরপরও তাঁর কাছে টাকা দাবি অব্যাহত থাকে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ আগস্ট ব্যবসায়ী অসুস্থতার কারণে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই সময় কনস্টেবল রিয়াদ হোসেন তাঁর কাছে পুনরায় টাকা চান। ব্যবসায়ী ঢাকায় অবস্থানের কথা জানিয়ে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাঁর নামে মিথ্যা রিপোর্ট তৈরি করে পুলিশ সুপার ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে ব্যবসায়ী রিয়াদ হোসেনকে হাজীগঞ্জ পোস্ট অফিসসংলগ্ন তাঁর ফ্যাক্টরিতে ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করতে বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই রাতেই রিয়াদ হোসেন ফ্যাক্টরিতে গিয়ে ব্যবসায়ীর ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলামের কাছ থেকে আরও ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। টাকা গ্রহণের ঘটনাটি ফ্যাক্টরির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
রেজাউল করিমের অভিযোগ, ওই টাকা নেওয়ার পরও রিয়াদ হোসেন ক্ষান্ত হননি। বরং তাঁকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। টাকা না দিলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং হাজীগঞ্জে শান্তিতে বসবাস করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবসায়ী রেজাউল করিম হৃদরোগে আক্রান্ত এবং তাঁর হার্টে দুটি রিং স্থাপন করা হয়েছে। কথিত ভয়ভীতি ও হয়রানির কারণে তাঁর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগের সঙ্গে ফ্যাক্টরির সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত পেনড্রাইভ, টাকা গ্রহণের স্থিরচিত্র এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে, কনস্টেবল রিয়াদ হোসেনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকজনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগের কথাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মীকে ফোন করে হুমকি ও টাকা দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া হাজীগঞ্জের কথিত মাদক কারবারি সোহেল নামে এক ব্যক্তিকে ভয় দেখিয়ে ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে পরদিন সোহেলের দারোয়ান জামালের কাছে ওই ১৩ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে। একইভাবে এক নারী উদ্যোক্তার কাছ থেকেও ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।
তবে ব্যবসায়ী রেজাউল করিমের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুলিশ কনস্টেবল রিয়াদ হোসেন। তাঁর দাবি, রেজাউল করিমের কাছ থেকে যে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটি তাঁকে ‘ট্র্যাপ’ করে টাকা ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল। এটি চাঁদা হিসেবে নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
মাদক কারবারি সোহেল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রিয়াদ হোসেন বলেন, ওই টাকা তিনি সোহেলের দারোয়ানের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ প্রসঙ্গে রিয়াদ হোসেন বলেন, হাজীগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কিছু লোক একত্রিত হয়ে একটি সিন্ডিকেটের মতো কাজ করছে। তাঁদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবেদন দেওয়ায় একটি পক্ষ তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। এর জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
রিয়াদ আরও বলেন, তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তাঁকে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। কিন্তু সেই যোগাযোগের বিষয়টিকেও ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
তাঁর দাবি, তিনি দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন দিয়ে থাকেন। এসব কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, এই বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করছি।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।