
মতলব দক্ষিণ উপজেলা ডিলার মোঃ কাউছার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এইচএমসিএল চট্টগ্রাম ডিভিশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনোয়ার হোসেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন ইউনিট ডিলার কিষন আলমগীর হোসেন, তাজুল ইসলাম, মেহেদি হাসান হিরন, সাহাদাত হোসেন, ইকবাল হোসেন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ম্যানেজিং ডিরেক্টর আনোয়ার হোসেন বলেন, এইচএমসিএল কোম্পানি একটি স্বপ্ন থেকে মানুষের সেবায় পথচলা শুরু করেছে। প্রতিটি বড় স্বপ্নের শুরু হয় খুব ছোট একটি বিশ্বাস থেকে। তাঁদেরও যাত্রা শুরু হয়েছিল একটি ছোট স্বপ্ন নিয়ে—শুধু নিজের জন্য একটি ব্যবসা নয়, বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যেখানে ব্যবসার সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান, নিরাপদ খাদ্য এবং মানুষের সেবার একটি সুন্দর সমন্বয় থাকবে।
তিনি বলেন, সেই পথ সহজ ছিল না। ছিল নানা সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা এবং অসংখ্য চ্যালেঞ্জ। তবে প্রতিটি বাধা তাঁদের থামিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে আরও দায়িত্বশীল করেছে। প্রতিটি ভুল শিখিয়েছে এবং প্রতিটি সাফল্য আরও বড় স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।
আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে মতলব দক্ষিণ উপজেলা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫০ জন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে এইচএমসিএল কোম্পানি লিমিটেড। এটি হয়তো একটি সংখ্যা, কিন্তু প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি স্বপ্ন ও একটি জীবনের গল্প।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসার প্রকৃত সার্থকতা শুধু মুনাফায় নয়; মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, তার মধ্যেই ব্যবসার বড় সাফল্য। সেই লক্ষ্যেই তাঁরা মানুষের ঘরে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, তাঁদের নীতি—“লাভ কম, সেল বেশি—মানুষের আস্থা হোক আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ।” তাঁরা চান, প্রতিটি সদস্য ও সাধারণ মানুষ যেন মৌলিক প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ন্যায্য বণ্টন ও বিশেষ ছাড়ের মাধ্যমে সহজে ঘরে বসেই পাওয়ার সুযোগ পান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন, তাঁদের লক্ষ্য শুধু পণ্য পৌঁছে দেওয়া নয়; মানুষের প্রয়োজনের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন হাসপাতাল ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সদস্যদের জন্য সম্ভবপর বিশেষ ছাড় ও সেবার সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে।
তিনি বলেন, এই স্বপ্ন একা পূরণ করা সম্ভব নয়। এই পথচলার প্রতিটি অর্জনের পেছনে রয়েছেন সম্মানিত গ্রাহক, সদস্য, ডিলার, টিম মেম্বার, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের ভালোবাসা, বিশ্বাস, সহযোগিতা ও দোয়া তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, যেন আরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়, নিরাপদ খাদ্য মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া যায় এবং ব্যবসার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে আরও বড় ভূমিকা রাখা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এইচএমসিএলের স্বপ্ন বড় হলেও সেই স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। আজকের ছোট্ট পথচলা একদিন আরও বড় পরিসরে মানুষের সেবায় রূপ নেবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
“সেবা হবে সবার জন্য উন্মুক্ত”—এই প্রত্যাশা নিয়ে এইচএমসিএল কোম্পানির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।