
চাঁদপুরের কচুয়া বাজারস্থ ইসলামীয়া হাসপাতালে হামলা, মারধর, ভাঙচুর, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়াসহ ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে দায়ের করা নালিশি মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন কচুয়া থানার করইশ গ্রামের তরিকুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, শরীফুল ইসলাম ও গাজী গোলাম মোস্তফা।
আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়, কচুয়া বাজারস্থ ইসলামীয়া হাসপাতালের তৃতীয় তলার অফিস কক্ষে থাকা বাদীকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেখানে প্রবেশ করেন। এ সময় তার সঙ্গে অশালীন আচরণ, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে কয়েকজন আসামি লোহার রড ও কাঠের আদল দিয়ে বাদীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ডান বুকের পাঁজরের হাড় ভেঙে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হাসপাতালের ক্যাশবাক্স ভেঙে ১৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়া, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রোগীদের মারধর করে বের করে দেওয়া এবং হাসপাতালের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগও করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসার জন্য কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে সেখানেও বাদী ও তার স্বজনদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। মামলা করলে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বাদী ওমর ফারুক মজুমদারের দাবি, ঘটনার পর থানায় মামলা নিতে বিলম্ব হওয়ায় তিনি আদালতের আশ্রয় নেন।
আদালত অভিযোগের বিষয়ে তিনজন সাক্ষীর জবানবন্দি পরীক্ষা করেন এবং বাদীর দাখিল করা জখমী সনদ পর্যালোচনা করেন। উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুজাহিদুর রহমান চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।