1. banglaaadi@gmail.com : News Desk : News Desk
  2. info@www.aadibangla.com : - : AADI BANGLA
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে বিএনপির চেয়ারম্যান মনোনয়নপ্রার্থী কাজী জাকির হোসেন শাহমাহমুদপুরে শিক্ষক শাহনেওয়াজ খানের রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা শাহরাস্তিতে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ওয়াকওয়েতে আড্ডা, আটক ১৬ শিক্ষার্থী বাবুরহাট কলেজে মকবুল-রাজিয়া ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান চাঁদপুর ওয়াইডব্লিউসিএ স্কুলের উন্নয়নে সরকারি সহায়তার উদ্যোগ নেব: শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি চাঁদপুর জেলা পরিষদ পরিদর্শনে শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক এমপি চাঁদপুরে কোস্টগার্ডের অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, আটক ৫২ জেলে চাঁদপুরে মাদকসহ গ্রেফতার ১১, কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক ৭৬ চাঁদপুরে ৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ, ৫ জেলের বিরুদ্ধে মামলা ফরিদগঞ্জে জাতীয় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

শাহরাস্তিতে ৪৫ কিশোর আটকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২০৫ বার পড়া হয়েছে
আবু মুছা আল শিহাব: চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে রাতের বেলায় অযাচিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘোরাফেরার অভিযোগে ৪৫ কিশোরকে আটকের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ পুলিশের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন আটকের পর যদি অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে এই আটকের উদ্দেশ্য কী।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শাহরাস্তি থানার পুলিশের একাধিক দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৫ কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাদের বিরুদ্ধে থানার রেকর্ড ও সিডিএমএস যাচাই করে বিরূপ তথ্য না পাওয়ায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রশংসার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ হয়রানির অভিযোগে নেটিজেনদের ক্ষোভ, অভিযানের কার্যকারিতা এবং সাধারণ দিনমজুরদের ধরে আনার তীব্র সমালোচনা করেছেন অনেকে। নিচে কয়েকটি পোস্ট ও মন্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো।
Amimul Hridoy: তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “যাকে পেলাম তাকেই রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে আসলাম। এটা কখনো প্রশাসনের সফলতা বা অভিযান হতে পারে না। নিরীহ কর্মশ্রেণীর মানুষগুলো যারা অনেকেই দিনমজুর এভাবে তুলে আনাতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। আর যদি মনে করেন সাধারণ কিছু মানুষকে তুলে এনে নিউজ করে আবার ছেড়ে দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের সতর্ক করা, তাহলে এটা সাধারণ নাগরিকদের উপর অন্যায়। পুলিশকে কাজ করতে হবে স্পেসিফিক তথ্যের ভিত্তিতে, তাদের কাছে এনাফ নিউজ থাকে, সোর্সরা তথ্য দেয়, গোয়েন্দারা দেয়। তাই আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি চলবে না। এগুলো আসলে হয়রানি, আর অনেকটা গুয়ারতুমি।”
Shamsur Shobuj: পুলিশের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “কত-শত অনিয়ম চলছে দেশে এগুলার কোনো খবর নাই। মানুষ সারাদিন কাজ করে এসে রাতে একটু বের হয়। এদেরকে ধরে নিয়ে বাহাদুরি দেখায়। আসলে ওসির কাজ কি সেটাই হয়তো ভুলে গেছে।”
Shariful Islam Shakil: তিনি একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনার উদাহরণ দিয়ে ব্যঙ্গ করে লেখেন, “আমগো বাড়ির কাসিম কাকা সারাদিন কাজ কইরা দোকানে চা খাইতে গেছে তারে নিয়ে আসছি উনি কিশোরগ্যাং হলো কিভাবে বয়স ৩৫ থেকে ৪০!!”
Khorshed Alam: প্রশাসনের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “নেতারা যদি এটা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয় তা হলে প্রশাসনের হয়রানি বন্ধ হবে না।”
বেরনাইয়া খেলাঘর: সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে সন্দেহ প্রকাশ করে লেখেন, “আমার মনে হয় টাকা জন্য।”
Shahadat Hossain: বিগত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এগুলো তামাশা,,গত ১৭ বছর বি এন পির নেতাকর্মীদের মেরে কুকুরের মত বেঁধে জেলে ঢুকিয়েছে সব ভুলে গেছে।”
M. Belayet Hossain: আতঙ্ক মিশ্রিত রসিকতা করে তিনি লেখেন, “বড় ভাই ভয় করে থানার পিছনে থাকি কোনদিন জানি আমাকে নিয়ে যায়।”
Saiful Khaled: অভিযানের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “স্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী যেন সন্ধ্যার পরে অযাচিতভাবে কিংবা অপ্রয়োজনে পড়াশোনা বাদ দিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি না করে সেজন্য একটি সচেতনতামূলক অভিযান এটি মূলত গ্রেফতার নয়!”
Alamin Khan: রাতের আড্ডা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “Saiful Khaled মোটামুটি প্রতি সপ্তাহে বাড়িতে যাওয়া হয়তো ভাই অনেক সময় বারোটা সাড়ে বারোটা বেজে যায় তখনও দেখি পোলাপাইন আড্ডা দেয় এত রাত পর্যন্ত আড্ডা দেওয়ার মানে কি? সচেতনমূলক অভিযান এটাতে আমি একমত।”
Md Nobir Hossain: অভিভাবকদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, “এটা হচ্ছে সতর্কতার জন্য গার্ডিয়ান জানেনা তাদের ছেলেরা রাতে কোথায় থাকে এরেস্ট করে থানায় নিয়ে আসছে যাতে সামনে রাত্রেবেলা আড্ডা না দেয়।”
৪. স্থানীয় পোস্ট ও পারস্পরিক মন্তব্য চালাচালি
আটকের ধরন এবং নিজ এলাকার মানুষ থাকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি ও কৌতূহল দেখা গেছে।
Anwar Hossain : মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযানের সমর্থন জানিয়ে তিনি মন্তব্যকারীদের আশ্বস্ত করতে বলেন, “মাদক ও জুয়ার সাথে যারা আছে তাদের ধরলে কোন সমস্যা নাই কিন্তু কোন মানুষকে হয়রানি শিকার না হয় সেই বিষয়ে বলা হয়েছে।”
মেহেদী হাসান আরমান তাঁর পোস্টে প্রশাসনের উদ্যোগের সমালোচনা করে মন্তব্য করেন, উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া সন্ধ্যার দিকে কিশোরদের আটক করে থানায় নেওয়া অযৌক্তিক। তাঁর দাবি, তাঁর এলাকার আটক কিশোরদের কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়।
এস টি সুলতান নামে এক পোস্টদাতা লেখেন: পুলিশের ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি লেখেন, “এই গ্রেফতারের মানে কি আবার ফ্যামিলি জিম্মায় ছেড়েও দিলেন তাহলে এই গ্রেফতার এর মানে কি? কেউ বুঝে থাকলে একটু বুঝাইয়েন।”
সব মিলিয়ে শাহরাস্তিতে ৪৫ কিশোরকে আটকের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। এক পক্ষ এটিকে রাতের বেলায় কিশোরদের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাফেরা, আড্ডা ও সম্ভাব্য অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে পুলিশের একটি সতর্কতামূলক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন। অন্য পক্ষ নির্দিষ্ট অভিযোগ বা তথ্য ছাড়া সাধারণ মানুষকে আটকের অভিযোগ তুলে অভিযানের পদ্ধতি ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৬, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট