
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চাঁদপুর জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এসব কথা বলেন।
শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা চলছে। জেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে ২৫০ শয্যার বিপরীতে বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসক ও নার্সদের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন খালে কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা বাড়ছে। খালে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো বাড়িঘরের স্যুয়ারেজ লাইনের সংযোগ খালের সঙ্গে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নজরদারি করতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, চাঁদপুরের পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হতে হবে। শুধু কাগজে-কলমে কার্যক্রম পরিচালনা না করে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত ও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
পাসপোর্ট অফিসের সেবার বিষয়ে শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেন, চাঁদপুরে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও ভোগান্তির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পাসপোর্ট অফিস। দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্টের কাজ করতে গিয়ে মানুষ প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পাসপোর্ট অফিসের আশপাশের বিভিন্ন দোকান ও দালালদের সঙ্গে অফিসের কর্মচারীদের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষকে এ ভোগান্তি থেকে মুক্ত করতে হবে। দালালমুক্ত ও স্বচ্ছ পরিবেশে পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পরিদর্শনের নামে শুধু বিভিন্ন স্থানে গেলেই হবে না; কোথায় কী সমস্যা রয়েছে তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরও আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কাজ করতে গিয়ে কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তাকে অবহিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. এরশাদ উদ্দিন।
সভায় বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নূর আলম দীন, চাঁদপুর মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডা. হারুন আর রশিদ, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সভায় জানানো হয়, জেলা সদরে জেলা পরিষদের আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণকাজের মানের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস না করে গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে তদারকি করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ডেঙ্গু বিষয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট বেডের ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় জানানো হয়, এখন পর্যন্ত চাঁদপুরে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ২৫০টি বেডের বিপরীতে বর্তমানে ৬১১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিমাদ্রি খীসা, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. এন. জামিউল হিকমা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বাহারসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।