
নিজস্ব প্রতিনিধি: চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬ নং মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন থেকেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা ও হিসাব-নিকাশ। চায়ের দোকান, বাজারের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় উঠে আসছে।
আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য এবং চাঁদপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (মানিক) পাটওয়ারী,
সাবেক চেয়ারম্যান আবু জাফর সালেহ (অলি) পাটওয়ারী। নতুন মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন চাঁদপুর জেলা কৃষক দলের সভাপতি মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ খোকন এবং মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহাবুবুর রহমান স্বপন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেই ঘুরেফিরে এই চারজনের নাম সামনে আসছে। সাবেক দুই চেয়ারম্যানের রয়েছে জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে আলোচনায় থাকা নতুনদেরও মৈশাদীর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অতীত কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক অবস্থান এবং এলাকার মানুষের পাশে থাকার বিষয়গুলো নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও কে কতটা জনপ্রিয় এবং কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি তা নিয়েও চলছে আলোচনা।
স্থানীয় কয়েকজন ভোটার বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, এলাকার প্রতি দায়িত্ববোধ, অতীত কর্মকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনা করেই ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থী বেছে নেবেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (মানিক) পাটওয়ারী বলেন, স্বচ্ছ নেতৃত্ব, উন্নয়নের গতি, আলোকিত ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতি এই স্লোগানকে সামনে রেখে মৈশাদী ইউনিয়নকে মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত একটি সুন্দর ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অতীতেও কাজ করেছি। বর্তমানে সেই কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবো, ইনশাআল্লাহ।
সাবেক চেয়ারম্যান আবু জাফর সালেহ (অলি) পাটওয়ারী বলেন, আমি ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এরপরও নিয়মিত মানুষের পাশে থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছি। ইনশাআল্লাহ, ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থেকে সেবা করে যাবো।
চাঁদপুর জেলা কৃষক দলের সভাপতি মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ খোকন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে আমাকে মনোনয়ন দিলে অবশ্যই আমি নির্বাচন করবো। আমার বিশ্বাস, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
মৈশাদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মাহাবুবুর রহমান স্বপন বলেন, আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী। দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবো। তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই কাজ করে যাবো।
তবে শেষ পর্যন্ত কারা প্রার্থী হচ্ছেন এবং নির্বাচনের মাঠে কার অবস্থান কতটা শক্তিশালী হয় সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, মৈশাদী ইউনিয়নের রাজনৈতিক মাঠের চিত্রও ততটা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।